img

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোলাকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) নামের এক গরু ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

নিখোঁজ কাজল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চাকপাড়া গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজ মেম্বারের ছেলে।  

গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিখোঁজ কাগজের স্ত্রী লিসা বেগম (৩০) বাদী হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দুই আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮ জনসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় অপহরণ ও গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। 

আসামিরা হলেন- চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ওমর আলী ( ৫২), জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম মেম্বার ( ৫০), গিথনিপাড়া গ্রামের মনসুর রহমানের ছেলে মো. আলম ( ৪০), বাথানপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে হাসেম আলী (৪০), একই গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে জোহাক আলী ( ৫০), চাকপাড়া গ্রামের মোর্তুজা মোড়লের ছেলে নাজমুল গুধা ( ৫৬), একই গ্রামের মৃত ভোগু উদ্দিনের ছেলে নেজাম উদ্দিন (৪৫) ও গিথনিপাড়া গ্রামের জিল্লুর রহমানের ছেলে আতাবুর রহমান সেন্টু (৫৪)। সেই সঙ্গে কাজল অপহরণ ও গুমের সঙ্গে অজ্ঞাত আরও ৮ জন জড়িত বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি রাতে কথা কাটাকাটির বিরোধ মীমাংসার নামে বাড়ি থেকে আসামিরা কাজলকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেনি। 

বাদীর অভিযোগে বলা হয়েছে, তার স্বামী গরুর ব্যবসা করেন। এলাকায় গরু কিনে রাজশাহীর সিটি হাট ছাড়াও ঢাকায় গরু চালান করে থাকেন। গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে চরবাগডাঙ্গা বাজারে আসামি আলম ও নাজমুল গুদার সঙ্গে ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। পরদিন ২ জানুয়ারি রাত আনুমানিক সোয়া ৯টার দিকে কাজলের মোবাইল নম্বরে একটি ফোন আসে। ফোনদাতা তাকে বাড়ির বাইরে আসতে বলেন। কিন্তু কাজল জানান তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। এ কারণে রাতের বেলা আর বাইরে যেতে পারবেন না। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে আসামি হাসেম আলী মোটরসাইকেল নিয়ে কাজলের বাড়িতে যান। তিনি কাজলকে জানান, গতকাল বাজারের ওপর তোমার সঙ্গে আলম ও নাজমুলের যে কথা কাটাকাটি হয়েছে সেটা মীমাংসা করা হবে। হাসেম আলী, কাজলকে আরও জানান- ঘটনাটি মীমাংসার জন্য ওমর আলী, জোহাক আলী, নুরুল ইসলাম মেম্বার, সেন্টু , নেজামসহ অন্যরা আলমের বাড়িতে বসে আছে। তোমাকে নিয়ে যেতে আমাকে পাঠিয়েছে। হাসেমের পিড়াপিড়িতে শেষ পর্যন্ত কাজল আসামি হাসেমের মোটরসাইকেলের পেছনে বসে আলমের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। 

বাদীর এজাহারে আরও বলা হয়েছে, চলে যাওয়ার আধাঘণ্টা পর তিনি তার স্বামীর মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে সেটি বন্ধ পান। এভাবে তিনি রাতভর স্বামীর ফিরে আসার অপেক্ষা করেন। পরদিন ৩ জানুয়ারি সকালেও তার স্বামী বাড়ি ফিরে না আসায় এলাকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আলমের বাড়িতে খুঁজতে যান। এ সময় আসামি আলম তাকে জানান, যে বিষয়টা মীমাংসা হওয়ার কথা সেটা হয়ে গেছে। আলম বাদীকে আরও জানান, ওই রাতে কাজল সেখানে আসামিদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে চলে গেছেন। 

লিসা বেগম অভিযোগে আরও বলেন, নিকটাত্মীয় ও পরিচিতজনদের বাড়িতেও খোঁজাখুঁজি করে স্বামী কাজলের খোঁজ মেলেনি। এরপর আমি থানায় অপহরণ ও গুমের অভিযোগ দায়ের করেছি। আসামি পরস্পর যোগসাজশে আমার স্বামীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত কোথাও গুম করে রেখেছে বলে আমি বিশ্বাস করছি। তাকে খুনও করা হতে পারে বলে বাদী আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জানান, নিখোঁজ গরু ব্যবসায়ী গোলকাজুল ওরফে কাজলসহ আসামিদের মোবাইল ফোন নম্বরগুলো ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

এই বিভাগের আরও খবর